উখিয়ায় ১৪৪ শয্যার কোভিড -১৯ চিকিত্সা কেন্দ্র উদ্বোধন

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ২১:০০:২০

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া,

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে কক্সবাজারে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ও স্থানীয় জনগণের জন্য নির্মিত দুইটি সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন (সারি) এন্ড আইসোলেশন ট্রিটমেন্ট সেন্টার (আইটিসি) উদ্বোধন করেছেন।  বৃহস্পতিবার ( ২১ মে ) দুপুরে উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায় করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য নির্মিত  বিশেষায়িত এ হাসপাতাল উদ্বোধন করেন।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা প্রদানের লক্ষে নির্মিত এসএআরআই এন্ড আইটিসি হাসপাতালের একটি কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা  ক্যাম্পে ও অপরটি উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায়  অবস্থিত। প্রায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট এ বিশেষায়িত চিকিত্সা কেন্দ্র দুইটিতে কোভিড-১৯ এর গুরুতর রোগীদের সেবা দেয়া হবে, চিকিৎসা পাবে শরণার্থী ও স্থানীয় সবাই।

গত ১৮ মে কুতুপালং ৫ নং ক্যাম্পে প্রথম এসএআরআই এন্ড আইটিসি সেন্টার  অনলাইনে উদ্বোধন করার সময় কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক মুহুর্ত। এই মানবিক কার্যক্রমের শুরু থেকেই ইউএনএইচসিআর বাকিদের জন্য পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।“

বৃহস্পতিবার উখিয়ায় ১৪৪ শয্যার দ্বিতীয় এসএআরআই এন্ড আইটিসিটি সেন্টার  উদ্বোধনকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে ইউএনএইচসিআরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইউএনএইচসিআর-এর তৈরি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে শরণার্থী ও স্থানীয় কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দেয়া হবে।”

ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র অপারেশনস ম্যানেজার হিনাকো টোকি বলেন, “এখন ক্যাম্পের ভেতরের ও বাইরের রোগীদের আইসোলেশন করে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে, যেন তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। গুরুতর রোগীদের আইসোলেশন সেন্টারে রাখার কারণে তাদের পরিবার ও এলাকা কম ঝুঁকিতে থাকবে। এটি আমাদের সবার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অর্জন।”

এই দুইটি এসএআরআই ও আইটিসি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তার বৃহত্তর মানবিক প্রয়াসের একটি অংশ। এর আরেকটি উদ্দেশ্য এই রোগের গুরুতর রোগীদের মেডিক্যাল চাহিদা নিশ্চিত করা। পুরো জেলায় শরণার্থী ও স্থানীয়দের জন্য ১২টি এসএআরআই আইটিসি করা হবে, যেখানে সর্বমোট শয্যা সংখ্যা হবে ১,৯০০টি।
কক্সবাজার জেলার সকল সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শরণার্থী ক্যাম্পের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যেই পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সহ আরও আনুসাঙ্গিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউএনএইচসিআর এর সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে ১০টি আইসিইউ বেড ও ৮টি হাই ডিপেনডেন্সি বেড। শীঘ্রই শেষ হতে যাওয়া এই ইউনিটে জনবলও দিবে ইউএনএইচসিআর, যাদের কাজ হবে গুরুতর রোগীদের সেবা দান। এসব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলো পরিচালনায় অংশীদার সংস্থা ফুড ফর দ্য হাংরি, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, ব্র্যাক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে মিলে কাজ করবে বলে ইউএনএইচসিআর-এর গণসংযোগ কর্মকর্তা এম এম সাজ্জাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

ট্যাগ :