করোনাও রোহিঙ্গাদের খাদ্য বিতরণে পদ্ধতিগত পরিবর্তন

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ১৯:৩১:৪২

করোনা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য বিতরণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন
কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সাময়িকভাবে তার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তন করেছে।
ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ই-ভাউচার আউটলেট ও ইন কাইন্ড ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে। যদিও এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি নেই, তবুও শারীরিক দূরত্ব ও অন্যান্য পরিচ্ছন্নতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি থেকে স্টাফ, অংশীদার, খুচরা বিক্রেতা ও রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
লালার কণা বা মুখ ও নাক থেকে বের হওয়া কণার মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে, কারও হাতে এই ভাইরাসটি আছে এমন কোনো কণা লেগে থাকলে কিংবা দীর্ঘ সময়ের জন্য কথাবার্তা বললে বা সংস্পর্শে থাকলে এই ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

যে কোনো ধরনের ঝুঁকি কমাতে, ডব্লিউএফপি তার ই-ভাউচার আউটলেটে প্রতিদিন আসা মানুষের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে ও সেখানে যেন তাদেরকে আগের চেয়ে কম সময় থাকতে হয় তার ব্যবস্থা করেছে। এপ্রিল মাস থেকে, প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবার থেকে কেবল একজন ব্যক্তি একবার তার খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবে। আর এই খাদ্য আগে থেকেই একটি প্যাকেটে রাখা থাকবে যাতে সেই পরিবারের এক মাস সময় চলে।
ডব্লিউএফপি-এর নিউট্রিশন টিম খাদ্যের এই প্যাকেজটি যাচাই করে দেখেছে যেন এর ফলে তাদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। এর পাশাপাশি, আউটলেটে প্রবেশ করার আগে প্রত্যেককে তাদের হাত ধুতে হয় এবং তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপতে হয়।

কক্সবাজারে ডব্লিউএফপি-এর ভারপ্রাপ্ত ইমার্জেন্সি কোঅর্ডিনেটর জনাব জেফ কাপুর বলেন, যাদের জন্য আমরা কাজ করি, তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ডব্লিউএফপি-এর কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডব্লিউএফপি-এর জীবন রক্ষাকারী খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আউটলেটে বর্তমানে যেসব ব্যবস্থা চালু আছে, তার পাশাপাশি, স্টাফরা বারবার তাদের হাত ধোওয়া ও প্রতিদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার আগে শরীরের তাপমাত্রা মাপার মতো বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করছেন।

ট্যাগ :