ঘনিয়ে আসছে কোরবান, নানা সংকটে মানুষ জমছে না পশুর হাট, খামারিদের দূঃচিন্তা

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২১ ১৮:২৭:০৯

 

হুমায়ুন কবির জুশান,উখিয়াঃ
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে উখিয়ার পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও তেমন বেচাকেনা নেই। করোনার কারণে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা পশু কিনতে আসছেন না। নানা কারণে এবার পশুর হাটের ওপর ভরসা করতে পারছেন না উখিয়ার গরু খামারিরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উখিয়া সদরের বড় পশুর হাটে গরু, মহিষ তুলনামূলক উঠলেও ক্রেতাদের মাঝে তেমন তোড়জোড় দেখা যায় নি।

বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে সবধরনের শ্রেণী পেশার লোকজনদের আর্থিক টানাপোড়েনের মাঝে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার স্বভাবতই ৩০-৩৫ ভাগ মানুষ ইচ্ছা থাকা সত্বেও সামর্থ্যের কারণে কোরবানি করতে পারছে। গত প্রায় চার মাস ধরে করোনা পরিস্থিতির কারণে সাধারণত মধ্য ও নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে আয় রোজগার নেই বলা চলে। অথচ এ শ্রেণির অধিকাংশ ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকে। এবার কিন্তু তাদের সেই পরিবেশ নেই বলে জানা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে পশু খামারীরা লাভবান হতে পারবেন কি না- সে হিসাবও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সবমিলিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের। তাই হাটের জন্য অপেক্ষায় না থেকে যেসব লোক কোরবানি করবেন তাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে গরু বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। এছাড়াও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইনে গবাদিপশু কেনা বেচার মাধ্যমেও যোগাযোগ করছেন তারা।

খামারিরা বলছেন, পশু খাদ্যের অতিরিক্ত মূল্য। অন্যান্য খরচ মিলে গবাদিপশু লালন-পালনে ব্যয় বেড়েছে। উপরন্তু মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসা অব্যাহত রয়েছে।গরু ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, তার কোরবানিযোগ্য ১০ টি গরু রয়েছে। কিন্তু করোনার পরিস্থিতির কারণে এবার গরু কেনায় আগ্রহী ব্যাপারীদের তেমন আগ্রহী দেখা যাচ্ছে না।

এতে করে পশুর হাটে ক্রেতার অভাবে দরপতন ঘটার আশংকা খামারী ও বেপারীদের। করোনা মহামারি থেকে বাঁচার অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সামাজিক দূরত্ব না মানার কারণেই আমাদের দেশে করোনা বেশি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

তাছাড়া আমাদের পরিবেশে মানুষগুলোও এ বিষয়ে অভ্যস্ত নয় বিধায় উখিয়াতে কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।কোরবানির পশুর হাটে একটি পশু থেকে আরেকটির পশুর দূরত্ব পাঁচ ফুট থাকতে হবে। কিন্তু কোনো পশুর হাটে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। এছাড়াও পশুর হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব রয়েছে। মুখে মাস্ক না থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতাকে হাটে প্রবেশ করতে না দেয়া, হাটে প্রবেশ মুখে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র স্থাপন এসব কিছুই চোখে পড়ছে না।

ঈদ-উল-আজহায় সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা সর্তক করছেন। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও পরামর্শ মেনে চললে হয়তো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে।এরপরও উখিয়ায় হয়তো কোরবানের ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে তাতে পশুর হাট জমে ওঠবে বলে আশা স্থানীয়দের। করোনার এই সময়ে আমরা অসহায় মানুষের পাশে থাকবো এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

ট্যাগ :