চবি শিক্ষক আনোয়ারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৬ ০৮:৩০:৫০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মহানগর হাকিম আদালতে এক ছাত্রলীগ নেতার আরজি জানানোর দুই বছর পর সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার অনুমতি মেলে। এরপর গত বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই আরজিটিকে এজহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করে। এর আগে আনোয়ারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যার অভিযোগ ওঠে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা রেকর্ড করার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হয়। সেই কারণে অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি অনুমতি পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তানভীর বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো. নোমানের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলার জন্য আরজি জানান। ওই আরজি গ্রহণ করে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা করার জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দেন আদালত। সেই নির্দেশনার প্রায় দুই বছর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ পেয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ মামলাটি করে।

থানা সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল জার্নাল অব হিউম্যান সোশ্যাল সায়েন্সে সোসিওলজি অ্যান্ড কালচার নামের এক জার্নালে ‘রিলিজিয়াস পলিটিকস অ্যান্ড কমিউনাল হারমনি ইন বাংলাদেশ এ রিসেন্ট ইমপাস’ শিরোনামে আনোয়ার হোসেন একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল ওই প্রবন্ধ যুক্ত করে তিনি বিভাগীয় সভাপতি বরাবরে পদোন্নতির আবেদন করেন। এরপর ওই প্রবন্ধের ‘বিতর্কিত’ তথ্য নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন বাদী।

এর আগে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই মামলায় আনোয়ার কারাভোগও করেছিলেন। ওই মামলাটি এখন সিআইডি তদন্ত করছে।

ট্যাগ :