রেকর্ডের ম্যাচে টাইগারদের রানের পাহাড়

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৬ ২০:০৬:৫৬

রেকর্ডের ম্যাচে টাইগারদের রানের পাহাড়

লিটন দাসের উল্লাস ● সংগৃহীত

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বিদায়ী ম্যাচে রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের পক্ষে একদিনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস। ১৪৩ বল খেলে রান করেছে ১৭৬ রান। পেছনে ফেলে দিয়েছেন সতীর্থ তামিম ইকবালকে। ভেঙেছেন মেহরাব ও শাহরিয়ার হোসেনের ২১ বছরের রেকর্ডও। এতদিন তাদের ১৭০ রানই ছিল ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ।

প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রান তোলেন তামিম-লিটন। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লেতে কিছুটা সতর্ক ছিল বাংলাদেশ ওপেনাররা। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হবার আগ পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ১৮২ রান।

১১৪ বলে সিরিজের দ্বিতীয় ও ব্যক্তিগত তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস, ১৩৫ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ার প্রথম দেড়শ রান। ৯৮ বলে সিরিজে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম ইকবাল। মুমবার বলে ১৭৬ কোরে ক্যাচ দেন লিটন। তিনে নেমে ৩ রান করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

শেষ পর্যন্ত ৪৩ ওভারে ৩ ইউকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ৩২২ রান। জয়ের জন্য ৩২৩ টার্গেট নিয়ে ব্যাংটিংয়ে নেমেছে টস জয়ী জিম্বাবুয়ে। এখন পর্যন্ত তারা ১ ওভারে ৫ রান করেছে। বিনিময়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার কাছে সমর্পণ করতে হয়েছে একটি ইউকেট। অর্থাৎ ৫/১।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক ছিলেন তামিম ইকবাল। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিজেকেই ছাড়িয়ে যান তিনি। ১৫৮ রানের সেই রেকর্ডটি টিকলো না তিনদিনও। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজের ক্যারিয়ার সেরা ২২৬ রানের ইনিংস খেলা লিটন এদিন শুধু নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন না ছাড়িয়ে গেলেন সব রথি মহারথিকে। তার ১৭৬ রানের ইনিংসটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত খেলা শুরু করেন দুই ওপেনার। ৩৩তম ওভারে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে তামিম-লিটন মিলে করেন ১৮২ রান। লিটন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই মাঠ ছাড়েন। বৃষ্টির পর ফিরে দ্রুতই সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিমও। এরপর শুরু হয় একের পর এক রেকর্ড গড়া। নিজের ইনিংসটাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান লিটন। আর তার সঙ্গে মিলে তামিম জুটিটাকে বানান রেকর্ড জুটি। মুম্বার বলে সীমানায় সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ১৭৬ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে যান তিনি।

এর আগে ২০১৭ সালে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তারা। এটিই ওয়ানডেতে যে কোনও উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল। এর আগে শাহরিয়ার হোসেন ও মেহরাব হোসেনের ১৭০ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপের রেকর্ড ভাঙেন তারা। এরপর  বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ অনেক্ষণ। শেষ পর্যন্ত ওভার কমিয়ে খেলা গড়ানোর পর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেন এ দুই ওপেনার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগেই সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে তাই কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ ওয়ানডের ম্যাচে দলে ঢুকেছেন নাঈম শেখ ও আফিফ হোসেনের। তাদের এ ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হলো।  পেস আক্রমণে ফেরানো হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিনকে।

মুশফিকুর রহিমকে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বিশ্রাম নেয়া হবে সেটা আগেই জানানো হয়েছে। অনুমিতভাবেই নেই তিনি। প্রথম দুই ম্যাচের দলে থাকা নাজমুল শান্তকে রাখা হয়েছে একাদশের বাইরে। তিনি শুরুর দুই ম্যাচে তিনে ব্যাট করেছিলেন। তার জায়গায় রাখা হয়েছে নাঈম শেখকে। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের দলে পেস আক্রমণে থাকা শফিউল ইসলাম ও আল-আমিন হোসেন নেই শেষ ম্যাচে।

বাংলাদেশ একাদশ

তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাঈম শেখ, আফিফ হোসাইন, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি মিরাজ, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ

টিনাসি কামুনহুকামে, রেগিস চাকাভা, ব্রেন্ডন টেইলর, শেন উইলিয়ামসন, ওয়েসলি মেধেভেরে, সিকান্দার রাজা, রিচমন্ড মুতুমবামি, টিটোন্ডা মুতুমবোজি, ডোনাল্ড ট্রিপানো, কার্লটন টিসুমা ও চার্ল মুম্বা।

ট্যাগ :