রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ষড়যন্ত্রে ক্ষুব্ধ স্হানীয় জনগোষ্ঠী

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ২০:১৪:৪৮

 

রফিকুল ইসলাম, উখিয়াঃ
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অমূলক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এই দাবির তীব্র নিন্দায় বলেছে, সুরক্ষা বাহিনী কর্তৃক বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের মারধরের দাবী “ভিত্তিহীন”।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের আশ্রয় ক্যাম্প ও মিয়ানমার থেকে সমুদ্রগামী প্রায় ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে চলতি মাসে মানবিক সমুদ্রে ভাসমান থেকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেয়। তারা মূলত মালয়েশিয়া প্রবেশের জন্য সমুদ্র পথকে বেচে নিয়েছিল। প্রায় ২ মাস কোন দেশ তাদের আশ্রয় না দেয়ায় অনেকের মৃত্যু ঘটে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ও তার জনগণের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানবিক বিবেচনায় এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দেয়। চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের থেকে আলাদা করে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বুধবার এক প্রতিবেদনে ২৫ রোহিঙ্গার কথিত উদ্দেশ্য প্রণোদিত সাক্ষাত্কারের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগ করেছে যে রোহিঙ্গারা দ্বীপে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের শিকার হয়েছে।নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক এই গ্রুপটি জানিয়েছে,”তারা বলেছিল যে দ্বীপে যারা ছিল তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা বা খাদ্য, জল বা চিকিত্সা যত্নের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার ব্যতীত কারাগারের মতো পরিস্থিতিতে আবদ্ধ করা হচ্ছে”।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দাবির প্রতি আঘাত করে এবং কেন ভিত্তিহীন ও অমূলক অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। “তাদের একটা খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে। কেন তারা (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ) মিয়ানমারে সহিংসতা নিয়ে চুপ?” তিনি এএফপিকে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা এই জাতীয় মন্তব্য করছেন তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে নিয়ে যাওয়া। তারা যদি মনে করেন যে তারা অস্বস্তিতে আছেন তবে তাদের উচিত তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে তাদের খুশি করে রাখা।” এদিকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ষড়যন্ত্রে ক্ষুব্ধ স্হানীয় জনগোষ্ঠী। তাদের দাবী সম্ভবত আন্তর্জাতিক মহল স্হানীয় জনগোষ্ঠী ও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে একটি পরিকল্পিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইছে, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন বলে তাদের অভিমত।

বাংলাদেশের জুনিয়র বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এএফপিকে বলেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনগুলি “ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।

দ্বীপে রোহিঙ্গাদের দেখাশোনা করা নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, শরণার্থীদের “খুব ভাল আচরণ করা হচ্ছে”। জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্টোনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে স্থানান্তরিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন পূর্বে বলেছিলেন যে শরণার্থীরা মিয়ানমারের নিজের রাজ্য রাখাইনে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত “সম্ভবত” ভাসান চরে বসবাস করতে হবে।

ট্যাগ :